জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়ানোর পরিকল্পনা পিছিয়ে দিয়েছে ওপেক প্লাস

অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন ডিসেম্বর নাগাদ দৈনিক গড়ে ১ লাখ ১৮ হাজার ব্যারেল বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছিল ওপেক প্লাস।

অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন ডিসেম্বর নাগাদ দৈনিক গড়ে ১ লাখ ১৮ হাজার ব্যারেল বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছিল ওপেক প্লাস। সম্প্রতি এ পরিকল্পনা এক মাস পিছিয়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠনটি। খবর রয়টার্স।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, জ্বালানি তেলের শীর্ষ ভোক্তা চীনে চাহিদা কমে গেছে। এছাড়া ওপেক প্লাসবহির্ভূত দেশগুলো থেকে সরবরাহ বাড়ায় বাজারে নিম্নমুখী চাপ তৈরি হয়েছে। তাই উত্তোলন বাড়ানোর পরিকল্পনা পিছিয়ে দিয়ে বাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে চাইছে ওপেক প্লাস।

রাশিয়া ও এর মিত্রদেশসহ ওপেক প্লাসের আট সদস্য ডিসেম্বরে উত্তোলন বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠনটি কয়েক দফায় দৈনিক ২২ লাখ ব্যারেল উত্তোলন কমিয়ে এনেছে। তবে ধীরে ধীরে উত্তোলন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ডিসেম্বরের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল।

গত সপ্তাহে কয়েকটি সূত্র জানায়, চাহিদা কমে যাওয়া ও নেতিবাচক অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের কারণে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ানো নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ওপেক প্লাসভুক্ত দেশগুলোর জ্বালানিবিষয়ক মন্ত্রীরা উত্তোলন বৃদ্ধির পরিকল্পনা এক মাস বিলম্বিত করার সিদ্ধান্ত নেন।

ওপেক এক বিবৃতিতে জানায়, দৈনিক ২২ লাখ ব্যারেল উত্তোলন কমিয়ে আনার পরিকল্পনা ডিসেম্বরের শেষ পর্যন্ত বর্ধিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া সদস্য দেশগুলো তাদের উত্তোলন লক্ষ্যমাত্রা পরিপূর্ণভাবে পালনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

এ সিদ্ধান্তের খবরে বিশ্ববাজারে গত সপ্তাহের শেষ দিনে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম অল্প বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৩ ডলারের কিছু বেশিতে লেনদেন হয়। তবে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মার্কিন বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম বছরের সর্বনিম্নের কাছাকাছি রয়েছে। সেপ্টেম্বরে ব্রেন্টের দাম প্রায় ৬৯ ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল।

দাম ও চাহিদা কমে যাওয়া এবং সরবরাহ বাড়ায় এর আগে অক্টোবরে উত্তোলন বাড়ানোর পরিকল্পনা পিছিয়ে দিয়েছিল ওপেক প্লাস। ইসরায়েল ইরানের জ্বালানি তেল অবকাঠামোগুলোয় হামলা না করায় উত্তোলন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কমেছে। এতে জ্বালানি পণ্যটির দামে নিম্নমুখী চাপ তৈরি হয়েছে।

সৌদি আরবসহ ওপেকভুক্ত দেশগুলো বলছে, তারা কোনো নির্দিষ্ট দামের লক্ষ্য নির্ধারণ করে না। বরং বাজারের বাস্তবতা এবং চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

সব মিলিয়ে ওপেক প্লাস মোট ৫৮ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল উত্তোলন পিছিয়ে দিয়েছে, যা বৈশ্বিক চাহিদার প্রায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশের সমান। ওপেক প্লাস ২০২২ সাল থেকে দাম বাড়ানোর লক্ষ্যে উত্তোলন কমিয়ে আনার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে। এর মধ্যে ডিসেম্বরে উত্তোলন বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ১ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল উত্তোলন করা হতো।

ওপেকের সাম্প্রতিক কার্যক্রমে উত্তোলন কমিয়ে আনার শর্ত মেনে চলার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এর আগে ইরাক ও কাজাখস্তান লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উত্তোলন করেছিল। যদিও পরে এর ক্ষতিপূরণ হিসেবে উত্তোলন অতিরিক্ত কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশ দুটি।

ওপেকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওপেক প্লাস ইরাক, রাশিয়া ও কাজাখস্তানের সাম্প্রতিক ঘোষণার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে। এতে তারা চুক্তি মেনে চলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে উত্তোলন কমিয়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

আরও